1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
ফিরে দেখা ৩৫ জুলাই : ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা, হাসিনার পতনের ইঙ্গিত - Janatar Jagoron
শিরোনাম

ফিরে দেখা ৩৫ জুলাই : ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা, হাসিনার পতনের ইঙ্গিত

  • সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ২১০ বার পঠিত
ফিরে দেখা ৩৫ জুলাই : ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা, হাসিনার পতনের ইঙ্গিত

নবজাগরণের আগুনে পুড়ছে শহর, ছাত্রদের একটাই দাবি!
অনলাইন ডেস্ক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ২০২৪ সালের রোববার (৪ আগস্ট) সমন্বয়করা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। ওই দিনেই সারা দেশে অন্তত ৯৩ জন নিহত হন সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনে।

প্রথমে ৬ আগস্ট কর্মসূচি থাকলেও ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কায় তা একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। সমন্বয়করা সারা দেশ থেকে ছাত্র-জনতাকে ঢাকায় আসার আহ্বান জানান।

রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনকারীদের সামনে এক ভাষণে ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা হার মানব না। সরকার যদি নির্যাতন চালায়, আমরাও প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি মহল্লায় প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি গঠন করুন।’

তিনি ঘোষণা দেন, সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান চলবে। ওই সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে নিহতদের মরদেহ নিয়ে মিছিল বের হয়, যা টিএসসি হয়ে শাহবাগে গিয়ে পৌঁছায়। স্লোগান উঠে— ‘আমার ভাই মরলো কেন, শেখ হাসিনা জবাব দাও’, ‘দফা এক দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ চাই’।

মিছিল শাহবাগ থানার সামনে পৌঁছালে পুলিশ ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।

এর আগেই, ৩ আগস্ট একদফা দাবি ঘোষণা করে ১৫ দফা নির্দেশনায় ছাত্র-জনতাকে অসহযোগে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট সকালটা শান্ত থাকলেও দুপুরে সরকারপন্থী গোষ্ঠী মাঠে নামলে সংঘর্ষ শুরু হয়। অন্তত ২০টি জেলায় পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন ৯৩ জন।

ঢাকায় ১২ জনের বেশি নিহত হন; তাদের মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সরকার দেশব্যাপী কারফিউ জারি করে এবং মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। ৫ আগস্ট থেকে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়।

নিউ এজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪ আগস্টেই প্রাণ হারান ৯৩ জন। আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে কোটা সংস্কার ঘিরে ১৬ জুলাই ৬ জন হত্যার পর। এরপর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩১১-এ, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে।

সেই দিন শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। আন্দোলনে শিক্ষক, ছাত্র, কর্মজীবীসহ নানা শ্রেণির মানুষ অংশ নেয়। শাহবাগে ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ আশ্রয় নেয়, হাসপাতাল এলাকায় ২৪টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

মিরপুর-১০ এলাকায় গোলাগুলিতে আতঙ্ক ছড়ায়। বিভিন্ন জেলায়ও হতাহতের ঘটনা ঘটে— লক্ষ্মীপুরে আটজন, রংপুরে চারজন, বগুড়ায় পাঁচজন, সিলেটে চারজন, পাবনায় তিনজন, ফেনীতে আটজন নিহত হন।

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ অফিসে আগুন দেওয়া হয়। কোতোয়ালি থানায় হামলা হলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও গুলি ছোড়ে।

৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে সরকার রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করে। যদিও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে।

১৯ জুলাই মধ্যরাতে প্রথম কারফিউ ঘোষণা করা হয়, যা বিভিন্ন সময়ে শিথিল ছিল।

সেদিন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তিপ্রয়োগের নিন্দা জানায়। তারা বলে, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে সহিংসতায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এর দায় নিতে হবে প্রশাসনকে।

দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ৪ আগস্ট বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয়। এতে বিচারপতি, আইনজীবী, শিক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি রূপান্তর প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানানো হয়।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তাতে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।

এদিন হাইকোর্টে আন্দোলনকারীদের গুলির বিরুদ্ধে করা রিট খারিজ হয়ে যায়। আদালত জানায়, প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগ করতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..